০১ নভেম্বর ২০২৬ , ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

সূচক নিম্নমুখী, তবু গত সপ্তাহে ডিএসইর দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ১৩.৮৮ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ০১-১১-২০২৬
সূচক নিম্নমুখী, তবু গত সপ্তাহে ডিএসইর দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ১৩.৮৮ শতাংশ ছবিঃ সংগৃহীত

আগের সপ্তাহের তুলনায় গত সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ১৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যদিও প্রধান সূচকগুলো ছিল নিম্নমুখী। বাজার-সংশ্লিষ্টরা অবশ্য মনে করছেন, লেনদেনকে প্রত্যাশিত জায়গায় নিতে দৈনিক গড় অন্তত ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় তুলতে হবে।

ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনার তথ্য বলছে, গত সপ্তাহে দিনে গড়ে ৪৫০ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৩৯৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। পাঁচ কার্যদিবসে সপ্তাহের মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৫০৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা; আগের সপ্তাহের তিন কার্যদিবসে এর পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৮৫৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাসসকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে লেনদেন ধারাবাহিকভাবে কমে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার ঘরে নেমেছে। দেশের অর্থনীতির আকার ও বর্তমান পরিস্থিতির বিচারে এত কম লেনদেন প্রত্যাশিত নয়। সরকারের নানা উদ্যোগে লেনদেন কিছুটা বাড়লেও বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি।

তাঁর মতে, লেনদেন কমে যাওয়ার মতো তেমন খারাপ অবস্থা এখন পুঁজিবাজারে নেই। ব্যাংকিং খাত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ফলে বাজারের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

এদিকে গত সপ্তাহে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের চেয়ে ৩৩ দশমিক ১৯ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৪১৭ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে নেমেছে। আগের সপ্তাহ শেষে সূচকটি ছিল ৫ হাজার ৪৫০ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে।

একই সময়ে ডিএস৩০ সূচক ১৬ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৬ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১৯ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ কমে হয়েছে ১ হাজার ৫০ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট। উল্টো চিত্র এসএমই সূচকে—ডিএসএমইএক্স ৬ দশমিক ৪ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়ে উঠেছে ৯৭০ দশমিক ৮১ পয়েন্টে।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট ৮৭ কোটি ১৩ লাখ শেয়ার হাতবদল হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪০ কোটি ৭৩ লাখ। অর্থাৎ টাকার অঙ্কের পাশাপাশি শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণও বেড়েছে।

তবে দাম বাড়ার চেয়ে কমার প্রবণতাই ছিল বেশি। সপ্তাহে ১০৯টি কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে, কমেছে ২৫০টির, অপরিবর্তিত ছিল ২৫টির। ২৭টি কোম্পানির শেয়ারের কোনো লেনদেন হয়নি।

গত সপ্তাহে ব্লক মার্কেটে ১৭৯ কোটি ৫৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা, এসএমই বোর্ডে ১২ কোটি ৮৮ লাখ ১০ হাজার টাকা, অলটারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে ৫২ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং সরকারি সিকিউরিটিজে ৩০ কোটি ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে।

সাইফুল ইসলামের হিসাবে, দেশের অর্থনীতির আকার প্রায় অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। সে বিবেচনায় পুঁজিবাজারে দিনে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হওয়াটাই প্রত্যাশিত বলে মনে করেন তিনি। এই স্তরে লেনদেন না পৌঁছালে বিনিয়োগকারী, তালিকাভুক্ত কোম্পানি কিংবা তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান—কারও জন্যই বাজার টেকসই হবে না।

লেনদেন বাড়াতে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বন্ড দ্রুত মূল বোর্ডে আনার উদ্যোগ বাস্তবায়নে জোর দেন তিনি। তাঁর যুক্তি, বন্ডগুলো মূল বোর্ডে এনে লেনদেন নিশ্চিত করা গেলে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ বাড়বে, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও বাড়বে।

ডিবিএ সভাপতির মতে, বন্ডের তুলনামূলক বেশি সুদের হার আর সহজে কেনাবেচার সুযোগ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের টানতে পারে। কেউ প্রায় ১৩ শতাংশ মুনাফার সুযোগ পেলে এবং দরকারের সময় সহজে বন্ড বিক্রি করতে পারলে তাতে তাঁর আগ্রহ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বন্ড মূল বোর্ডে আনার বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে সফটওয়্যার সংশোধনের কিছু প্রক্রিয়াগত বিষয় রয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ব্যবহৃত সফটওয়্যারটি একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা হওয়ায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনে কিছুটা সময় লাগছে।’

চলতি বছরের মধ্যেই বন্ডগুলো মূল বোর্ডে লেনদেনের জন্য আনা যাবে বলে আশা করছেন সাইফুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজার ও সামগ্রিক অর্থনীতি এখন পুনরুদ্ধারের পর্যায়ে আছে; এ প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে বাজার-সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সক্রিয় হয়ে কাজ করতে হবে।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ